Advertising
hemel
Advertising
hemel

ভোলায় ইলিশ সংরক্ষনের কাঠামো নির্ধারন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ভোলা কর্মশালা

ইয়াছিন ইমন, ভোলা প্রতিনিধিঃ জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে ওর্য়াল্ডফিশ বাংলাদেশ এবং কোস্ট ট্রাস্ট কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ইকোফিশ প্রকল্পের বুধবার ভোলা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ইলিশ সংরক্ষনের সহ- ব্যবস্থাপনা কাঠামো নির্ধারন বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত কর্মশালায় ভোলা উপজেলার ধনিয়া, কাচিয়া, শিবপুর, ইলিশা রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বার জেলে ,আড়ৎদার এইচসিজির,সিএসজি ও মৎস্য অবতরন কেন্দ্রের নেতা সহ ১২০ জন উপস্থিত ছিলেন।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো:রেজাউল করিম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলার জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপ-পরিচালক, বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর, বরিশাল মো: বজলুর রশিদ, ইকোফিশ প্রকল্পের টিম লিডার প্রফেসর এম এ ওহাব, ভোলা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুব্রত কুমার শিকদার (সার্বিক) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক ( রাজস্ব), কোস্ট গার্ড দ: জোন ভোলা লে: কমান্ডার সাজ্জাদ হোসেন, ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোজাহিদুল ইসলাম,

ইকোফিশ প্রকল্প ম্যানেজার ড. নাহিদুজ্জামান ও রিসার্স এসোসিয়েট ইফতেখারুল ইসলাম, ভোলা সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান, ভোলা সদর উপজেলার পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: ইউনুস মিয়া, ভোলা ধনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদ হোসেন কবির, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মো: খাইরুল কবির, ভোলা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাফিয়া খাতুন, ইকোফিশ প্রকল্পের পিসি খোকন চন্দ্র শীল। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ইকোফিশ প্রকল্প ভোলা টিম।

প্রথমে কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে কর্মশালা শুরু হয়। এরপর ইকোফিশ প্রকল্পের টিম লিডার ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিনকে বরণ করেন। স্বাগত বক্তব্যে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন ভোলার জেলেরা আজ ইলিশ সংরক্ষরনের গুরত্ব অনুধারন করতে পেরেছে তার জন্য মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে তিনি শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন যে, আপনারা সকলে যদি সরকারকে সহযোগিতা করেন, মা ইলিশ রক্ষা করেন, জাটকা ইলিশ সংরক্ষন করেন তাহলে ভোলা হবে বাংলাদেশ ইলিশের অঞ্চল আর বাংলাদেশ রুপালী ইলিশের দেশ হিসাবে বিশ্বে জাযগা করে নিবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন বলেন, জেলেদের মধ্যে সচেতনাতা বৃদ্ধি করতে হবে, নদী আপনাদের, মাছ আপনাদের। অতএব নদী রক্ষা করার দায়িত্বও আপনাদের নিতে হবে। আপনারা নিজেদের ঘরবাড়ি যেভাবে ডাকাতের হাত থেকে রক্ষা করেন , তেমনি নদীর পরিবেশ রক্ষায়ও এগিয়ে আসুন, আমি আপনাদের সাথে আছি। আমার মোবাইলে ফোন করুন, যত রাতই হোক আমি আপনাদের ডাকে সারা দিব। অবৈধ জাল নদী থেকে উচ্ছেদ করবো। তিনি মৎস্য অধিদপ্তর ও কোস্ট গার্ডকে উন্নত প্রযুক্তির জলযান ব্যবহার করা জন্য পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন সরকারি অনুদানের চালের টাকা জেলেদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রদান করলে এ খাতে দূর্নীতি বন্ধ হবে।

কোস্ট গার্ড দ: জোন ভোলা লে: কমান্ডার সাজ্জাদ হোসেন বলেন আমরা ইলিশ সংক্ষরনে কাজ করছি, আমরা আপনাদের সাথে আছি, কোস্ট গার্ড জেলেদের বন্ধু, জেলেদের আরো সচেতন হতে হবে। ইকোফিশ প্রকল্পের টিম লিডার প্রফেসর এম এ ওহাব বলেন ইউএস এআইডির সহায়তায় ইকোফিশ প্রকল্প ৩.৫ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে যা জেলেদের উন্নয়নে কাজ করা হবে। বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: বজলুর রশিদ বলেন জেলেদের নিবন্ধনের কাজ চলছে, এখন প্রকৃত জেলেকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন যে, বর্তমান সরকার ১ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করেছে এবং ২ হাজার কোটি টাকার আর একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ব ব্যাংক আগ্র্রহ প্রকাশ করেছে এ দুটি প্রকল্প জেলেদের উন্নয়নে কাজ করবে। তিনি আরো জানান যে মালয়েশিয়া থেকে রির্চাস ভেসেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে যা বঙ্গপোসাগরের মৎস্য সম্পদের জরিপ কাজে ব্যবহৃত হবে।

কর্মশালাটি সঞ্চালনের দায়িত্বে ছিলেন কোস্ট ট্রাস্টের পরিচালক সনত কুমার ভৌমিক। তিনি পরিশেষে ইলিশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

Related posts