Advertising
hemel
Advertising
hemel

বন্যার পানিতে হাওর পাড়ের শিক্ষার্থীরা বিপাকে

বন্যার পানিতে হাওর পাড়ের শিক্ষার্থীরা বিপাকে

শাহীন আলম, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওর পাড়ের ৫০টি গ্রামের হাজারো কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয়ে থেকে বঞ্চিত হয়ে শিশু শ্রম ও গৃহস্থালি কাজে জড়িয়ে পড়ে। ফলে এ উপজেলায় অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষার স্থরেই ঝরে পড়ছে। এ উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে ২৪৯টি গ্রাম রয়েছে এবং ২৪৯টি গ্রামের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ১৩৩টিতে। উপজেলার সহকারি শিক্ষা অফিসার গোলাম রাব্বি বলেন ‘উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলের অনেক গ্রাম গুলোতে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। যে যে গ্রামে বিদ্যালয় নেই সেই গ্রাম গুলোতে বিদ্যালয় স্থাপনের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

৭টি ইউনিয়নের মধ্যে তাহিরপুর, বাদাঘাট, বালিজুরী ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগ কিছুটা ভাল থাকায় শিক্ষার্থীরা এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে গিয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ পাচ্ছে। অপরদিকে শ্রীপুর দক্ষিণ, শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন হাওর বেষ্টিত হওয়ায় বর্ষাকালে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে পায়ে হেঁটে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ৬ মাস যে সমস্ত গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই সে সকল গ্রামের শিশু কিশোররা বিদ্যালয় বিমুখ হয়ে পড়েছে। হেমন্ত মৌসুমে শিশু কিশোররা পিতা মাতাদের সাথে কৃষি কাজে জড়িয়ে পড়ে। যে কারণে অনেক শিশু কিশোর আর বিদ্যালয়ে আসে না লেখা পড়া শেখার জন্য।

উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে মন্দিয়াতা নতুন হাটি, মুজরাই, পানিয়া খালিসহ বেশকটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয় গমন উপযোগী শিশু কিশোররা দল বেঁধে খেলা করছে। একই অবস্থা রয়েছে একই ইউনিয়নে বেতাগড়া, জামালপুর, তেলিগাও পশ্চিম পাড়া, কৃষ্ণতলা, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নে গোপালপুর, রাজধরপুর, উজ্জ্বলপুর, জগদীসপুর, সাহসপুর নিশ্চিন্তপুর, লতিবপুর, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নে গোবিন্দপুর ও টুকেরগাঁওসহ সব কটি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামে।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের রাজধরপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আউয়াল বলেন ‘রাজধরপুর গ্রামের আশপাশে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। পাশ্ববর্তী বলতে আছে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে রামজীবনপুর গ্রামে রামজীবনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। হালির হাওরের বিশাল জলরাশি আর ঢেউ উপেক্ষা করে জীবন বাজি রেখে যেতে হয় বিদ্যালয়ে। তাও ছোট নৌকা দিয়ে যাতায়াত করা সম্ভব নয় বলে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় যেতে হয়। পরিবহন অতিরিক্ত ব্যয়বহুল বিধায় বর্ষার মৌসুমে রাজধরপুর গ্রামের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া থেকে বিরত থাকে।’

উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের পানিয়া খালী গ্রামের ছাত্র অভিভাবক এনামুল হক বলেন ‘নিজ গ্রামে স্কুল না থাকায় সেই সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় অন্য কোন গ্রামের বিদ্যালয়ে শিশু কিশোরদের পাঠানো হয় না।’ উপজেলা সদরের তাহিরপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কেচম্যাপ এলাকার বাসিন্দা গোবিন্দশ্রী মান্দালহাটি গ্রামের লুৎফুর রহমান লাকসাব বলেন ‘আমরা উপজেলা সদর ইউনিয়নে বসবাস করি এ কথা বললে কেউ বিশ্বাস করবে না। ২শ’ ফুট বাঁশের সাঁকো পাড় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়।’

শ্রীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, ‘বর্ষাকালে শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যায়।’উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খসরুল আলম বলেন ‘যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রাম গুলো থেকে শিশু কিশোরদের বিদ্যালয় মুখী করার জন্য বর্ষাকালে নৌকার ব্যবস্থা করার চিন্তা ভাবনা করছি।’

সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘বর্ষায় উপজেলার অনেক গ্রামে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না, আমরা আগামীতে চেষ্টা করবো যাতে নৌকা যোগে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতে পারে।’

Related posts